মেনু নির্বাচন করুন

শস্য ক্ষেত্রে চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ

 শস্য ক্ষেত্রটি চাঁদগ্রাম  ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একটি শস্য ক্ষেত যাহা চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন কৃষি অফিস কর্তৃক উচ্চ ফলন শীল গম বীজের একটি প্রদর্শণী ক্ষেত। কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি সেক্টর। আমাদের মোট জনসংখ্যার শতকার ৮০ ভাগ এবং শ্রমশক্তি ৬০ ভাগ কৃষিতে নিয়োজিত। গ্রামের উন্নয়নের কথা বলতে গেলে প্রথমে আসে কৃষি উন্নয়ন- কৃষি ভিত্তিক শিল্প, বাণিজ্য ও সেবা খাতের উন্নয়ন। বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১ কোটির অধিক এবং এটি বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দেশ এবং সে সাথে একটি সম্ভাবনাময় বড় বাজার। অভ্যন্তরীণ সম্ভাবনাময় বাজারের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও বাংলাদেশের প্রবেশের বিশাল সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে কৃষিজাত পণ্যের রপ্তানি বাজারে প্রবেশের বড় সম্ভাবনাও আছে। কৃষি এখনো দেশের বৃহত্তর গ্রামীণ জনগোষ্ঠির প্রধান পেশা এবং অধিকাংশ জনগণই জীবন জীবিকা ও কর্মসংস্থান এর জন্য কৃষির উপর নির্ভরশীল, কাজেই কৃষিভিক্তিক শিল্পে স্বল্পমাত্রার সঞ্চালনা ও প্রেষণাই আমাদের গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে ব্যাপক বিস্ফোরণ সৃষ্টি করতে এবং গ্রামীণ জনগণের জীবন মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জন তথা দারিদ্র্য বিমোচনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কৃষিশিল্পের উন্নয়ন এবং এ সেক্টরকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করার জন্য কৃষি সেক্টরের উন্নয়ন স্বাভাবিকভাবেই অগ্রাধিকার অর্জন করেছে। তবে ২০০৮ সাল থেকে বাজেটে কৃষি সেক্টরের বরাদ্দ তেমন বাড়েনি, বরং মোট বাজেটে তা শতকরা হারে ক্রমাগত কমছে। জাতীয় বাজেটে মোট ভর্তুকির পরিমাণ বেড়েছে কিন্তু কৃষিখাতে তা প্রতিবছর ক্রমাগতভাবে কমছে।

একটি কৃষিভিক্তিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ফসল এবং ফল-মূল উৎপাদিত হয়। অধিকন্তু পোল্ট্রি, ডেইরী, মৎস্য ইত্যাদি উপ-খাত হিসেবে সাম্প্রতিক কালে উদীয়মান এ সকল কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে রপ্তানিরও অনেক সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি ভিত্তিক শিল্পের মধ্যে রয়েছে পোল্ট্রি ফার্ম, ডেইরী ফার্ম, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, মৎস্য হিমায়িতকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প। দেশের ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীগণ বাংলাদেশে কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী। জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রকল্প এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদেরকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশের কৃষি জমি খন্ড-বিখন্ডিত এবং তা সাধারণত ছোট, যা সমবায় পদ্ধতিতে আবাদ করে উৎপাদন বাড়ানো যেতে পারে। সমবায় পদ্ধতিতে কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার জনপ্রিয়তার লাভ করছে। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব। বাংলাদেশের ধান, পাট, আখ, আলু, ডাল ফসল, গম, চা, তামাক, তৈলবীজ প্রধান ফসল। আমাদের কৃষি সেক্টরে ফসল উপ-খাতই শক্তিশালী যা মোট উৎপাদনের প্রায় ৭০ ভাগ যোগান দিচ্ছে।

 

জাতির খাদ্য চাহিদার যোগান দেয়াই সরকারের মুখ্য উদ্দেশ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খাদ্যশস্যের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- বন্যা, খরা, সিডর, আইলা ইত্যাদির ফলে খাদ্য এবং অর্থকরী ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে যা অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে অন্তরায়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারও নানান কর্মসূচী – যেমন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ। এসব কর্মসূচীর মধ্যে আরো রয়েছে উন্নত জাতের ফসলের জাত, বীজ ব্যবহার এবং বালাই দমন ইত্যাদি।

 


Share with :

Facebook Twitter